হাজি সেলিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম রোববার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম এই আদেশ দেন। শুনানি শেষে আদালত হাজি সেলিমের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
হাজি সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি আজ দুপুর ৩টার দিকে গাড়িতে করে আদালতের প্রাঙ্গনে আসেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগ থেকে সেখানে তার বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
হাজি সেলিম আদালতে আসার আগে তার পক্ষ থেকে তিনটি আবেদন করা হয়। একটি আবেদনে আপিলের শর্তে তার জামিন চাওয়া হয়। দ্বিতীয় আবেদনে যদি কারাগারে পাঠানো হয় তাহলে সেখানে তার জন্য প্রথম শ্রেণির মর্যাদা চাওয়া হয়। আর তৃতীয় আবেদনে হাজি সেলিমকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়।
২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জরুরি অবস্থার মধ্যে দুদক হাজি সেলিমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের মামলা করেছিল। সেই মামলায় সাজা হয়েছিল তার।
২০০৮ সালের এপ্রিলে বিশেষ আদালত হাজি সেলিমকে দুই ধারায় মোট ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার জন্য অভিযোগে হাজি সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা বেগমকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাজি সেলিম এবং তার স্ত্রী সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন। এর পর ২০১১ সালের জানুয়ারিকে উচ্চ আদালত তাদের সাজা বাতিল করে রায় দেন।
দুদক এর পর সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করে।
এর প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে হাই কোর্টের রায় বাতিল হয়। তখন হাজি সেলিমের আপিল ফের হাই কোর্টে শুনানির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
গত বছরের মার্চে সেই আপিলের শুনানি শেষে হাই কোর্ট বেঞ্চ একটি ধারায় হাজি সেলিমের ১০ বছরের সাজা বহাল রাখে। আরেকটি ধারায় তাকে ৩ বছরের সাজা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর সঙ্গে তাকে এক মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ততদিনে হাজি সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা বেগম মারা যাওয়ায় তার আপিলটি বাতিল করা হয়।