গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিমুখ করবেন না প্রধান বিচারপতি
নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ‘বিমুখ করবেন না’ বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে অপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাশে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
আসাদুজ্জামান বলেন, “দ্বিতীয় মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত এক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি আপনি। আপনাকে রাষ্ট্রপতিই শুধু পছন্দ করে নিয়োগ দেননি, আপনার নিয়োগের পেছনে রয়েছে এদেশের শত শত ছাত্রের বুকের তাজা রক্তে ভেজা রাজপথের কালজয়ী অমর কাব্যের এক বীরত্ব গাথা উপাখ্যান। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ঘটনা বিরল।
“গোটা দেশবাসীর মত আমিও আশা করি, আপনি তাদের বিমুখ করবেন না।”
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “এই দেশকে, এই দেশের সংবিধানকে, এ দেশের মানুষের অধিকার রক্ষার্থে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে আপনার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবকত্ব প্রকাশ পাক, এটা আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ফারাজসহ শত শহীদের প্রত্যাশা ছিল, তাদের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অন্তর্নিহিত কারণ ছিল।”
এই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সবার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রত্যাশা করেন।
বিচার বিভাগের ‘সিন্ডিকেটমুক্তি’ এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের ভেতরে ‘শুদ্ধি অভিযানে’ সব ধরনের দুর্নীতি নির্মূলের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, কারাগার, ব্যবসা পাড়া, এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যে সরকারি দলের সংশ্লিষ্টতা থাকলে বিচারকদের নিকট থেকে আনুকূল্য পাওয়া যায়।
“এটা আর ধারণার পর্যায়ে নেই, এটা আজ বিচার বিভাগ ধ্বংসের এক নির্মম বাস্তবতা। দুর্নীতির প্রচলিত ধারণায় অর্থনৈতিক লেনদেনকে বোঝালেও, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ডিনামাইটের চেয়েও ধ্বংসাত্মক, অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ, ক্যান্সারের চেয়েও মরণঘাতী।
“বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির কারণে আইন অঙ্গনে মেধাবী আইনজীবীরা অনেকেই শুরুতেই ঝরে যান, এর ফলে ভালো আইনজীবী তৈরি হচ্ছে না।”
সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতিসহ আইনজীবীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১০ অগাস্ট প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান পদত্যাগ করেন। তারপর আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি পদত্যাগ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রোববার বঙ্গভবনে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ শপথ পড়ান।