শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

গাজায় ঢুকছে মার্কিন সেনার ।

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 11 অক্টোবর 2025, 04:36 দুপুর 203 বার পঠিত
গাজায় ঢুকছে মার্কিন সেনার ।

গাজায় ঢুকছে মার্কিন সেনারা?

 

এটি আসলে অনিবার্য বা অবধারিতই ছিল। মার্কিন মগজ থেকে উৎসাহিত শান্তি প্রক্রিয়ায় দেশটির সামরিক উপস্থিতি বা খবরদারি থাকবে না—এমনটা ভাবা যায় না। মার্কিন মগজের ফসল না হলেও তো তাদের সামরিক উপস্থিতি থাকতোই। এখন সেই সম্ভাবনাটাই বাস্তব হতে চলেছে।

 

গাজায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন টাস্ক ফোর্সের মোতায়েন

যুক্তরাষ্ট্র গাজায় যৌথ টাস্ক ফোর্সের অংশ হিসেবে ২০০ সেনা মোতায়ন করবে। তবে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে আলাদা করে কোনো মার্কিন সেনা গাজার ভেতরে মোতায়ন করা হবে না। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই সেনা মোতায়ন করা হবে।

 

টাস্ক ফোর্সের সদস্য: নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, এই ২০০ সেনা টাস্ক ফোর্সের মূল অংশ হবে। সেখানে মিশরের সশস্ত্র বাহিনী, কাতার, তুরস্ক ও সম্ভবত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

 

দায়িত্ব: এই টাস্ক ফোর্স গাজায় সংঘর্ষ এড়াতে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করবে। যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষক মার্কিন সেনাদের এই দলটির নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।

 

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তারা যুদ্ধবিরতিতে আইন লঙ্ঘনের খবর জানাবে। আমেরিকান বাহিনী গাজায় প্রবেশ করবে না। এই সেনারা একটি সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপন এবং পরিকল্পনা করার জন্য কাজ করবেন যা তারা সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করেন। এনজিও, বিনিয়োগকারী এবং অংশীদার দেশগুলোকে এই সেনারা একত্রিত করবে, যাতে কার্যকরী ও দক্ষভাবে মানবিক সহায়তা পরিচালনা করা যায়।

 

চুক্তি কার্যকর এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা

হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে পেরে সন্তুষ্ট। তবে কিছু অংশে পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, "যতই ইতিবাচক অগ্রগতি হোক না কেন, এটি এখনো খুব নাজুক সময়। বহু উপায়ে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হতে পারে।"

 

যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী: মিশরের পর্যটন শহর শারম আল শেখ-এ চলমান আলোচনার তৃতীয় দিনে গত বুধবার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় হামাস ও ইসরাইল। এতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিশর ও তুরস্ক।

 

চুক্তির শর্ত: চুক্তি অনুযায়ী গাজায় সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি বন্দি বিনিময় করবে দুই পক্ষ।

 

আনন্দ উল্লাস: দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার এই খবরে আনন্দ উল্লাস করছেন গাজার বাসিন্দারা। যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গে হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের মুক্তি পাওয়ার সুযোগ আসবে বলে আনন্দ উদযাপন করা হচ্ছে ইসরাইলেও।

 

সংঘাতের ভয়াবহ চিত্র

২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে গাজায় টানা নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এ সময়ের মধ্যে দুই ধাপে মাত্র দুই মাসের কিছু বেশি সময় সেখানে যুদ্ধবিরতি ছিল। বাকি সময়ে হামলা চালিয়ে ৬৭,০০০ এর বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। আহত হন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।

 

এদিকে, ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদনের পর উপত্যকায় আইডিএফের অভিযান বন্ধের খবর জানিয়েছে টাইমস অফ ইসরাইল। অর্থাৎ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।