ফের লকডাউন শুরু হল পশ্চিমবঙ্গে
মহারাষ্ট্রের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে ওমিক্রন আক্রান্ত ২০ জন এবং একদিনে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৫১২ জন। এরমধ্যে কলকাতায় শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি। মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। ফলে আবার করোনা বিধি নিষেধ জারি করল মমতার সরকার।
আরো জানা যায় ,ভারতে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশই আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে মমতার সরকার আজ সোমবার (৩ জানুয়ারি) থেকে আবারও পশ্চিমবঙ্গে আংশিক দিচ্ছে।
গত (২ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বৈঠক শেষে রাজ্যের মুখ্যসচিব ঘোষণা দেন, সোমবার থেকে লন্ডন থেকে আসা কোনো উড়োজাহাজ কলকাতায় নামতে পারবে না। তবে সেই দেশের কোনো যাত্রীকে আটকানো হবে না। অর্থাৎ তারা অন্য কোনো দেশ থেকে আকাশ পথে কলকাতায় আসতে পারবেন। তবে সব দেশের নাগরিকরা কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আরটিপিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক। সেক্ষেত্রে এই দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে। এছাড়াও আন্তঃরাজ্য বিমান চলাচলেও কিছু বিধিনিষেধ থাকছে।
আংশিক লকডাউনে রাজ্যের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সুইমিং পুল, পার্ক, সেলুন, চিড়িয়াখানাসহ পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে সব লোকাল ট্রেন বন্ধ। তবে দূরপাল্লার ট্রেন চলবে যথানিয়মে। রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত থাকবে নৈশ কার্ফু। এ সময়ে জরুরি কারণ ছাড়া বের হতে পারবেন না কেউ। সব সরকারি-বেসরকারি অফিসে উপস্থিতি ৫০ শতাংশের বেশি নয়। এই বিধি নিষেধ আপাতত আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সেই সঙ্গে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প একমাস পিছিয়ে শুরু হবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে।
এছাড়া আরও কিছু আগের বিধিনিষেধ পশ্চিমবঙ্গে আবার চালু করেছে মমতার সরকার। পাশাপাশি ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের সোমবার থেকে কোভিড টিকাকরণ শুরু করতে চলেছে কলকাতা সিটি করপোরেশন। সেই টিকা দেওয়া হবে স্কুলে স্কুলে। তালিকায় প্রথমস্তরে রয়েছে ১৬টি স্কুলের নাম।
প্রসঙ্গত, ভারতজুড়ে করোনা ভাইরাস আবার একবার প্রভাব বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের নতুন প্রজাতি ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। ফলে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন দেশটির প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্য সরকারগুলো। ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ৫৫৩ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২৮৪ জনের। এছাড়া দেশটিতে ওমিক্রন আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫২৫ জন। সবচেয়ে বেশি ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা মহারাষ্ট্রে। সে রাজ্যে ৪৬০ জন শুধুমাত্র ওমিক্রন আক্রান্ত হয়েছেন।