এক দিন পরপর বৃষ্টি – বর্ষা কি সত্যিই লম্বা হচ্ছে?
এক দুই দিন পরপরই বৃষ্টি হচ্ছে, কী বলছেন আবহাওয়াবিদরা?
এ বছর বর্ষা একটু বেশি লম্বা হচ্ছে বলে অনেকের মনে হলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই ধারণা ঠিক নয়। বরং এটি প্রকৃতিরই স্বাভাবিক একটি প্রবণতা। আবহাওয়াবিদরা জানান, এই বর্ষায় বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ তৈরি হওয়ায় মৌসুমজুড়েই প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হয়েছে।বর্ষা দীর্ঘায়িত হয়নি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এই বছর বর্ষা দীর্ঘায়িত হয়নি, বরং আবহাওয়ার এই ধরনটি স্বাভাবিক। আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে একটির পর একটি লঘুচাপ তৈরি হওয়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির ধারা প্রায় প্রতিদিনই ছিল। হয়তো একদিন বা দুই দিনের বিরতি ছিল, কিন্তু বৃষ্টিপাত প্রায় নিয়মিতই হয়েছে।আবহাওয়াবিদরা বলেন, প্রকৃতি তার ভারসাম্য নিজেই বজায় রাখে। যেমন, পরপর কয়েক বছর তাপমাত্রা বেশি থাকে এবং বৃষ্টি কম হয়, আবার তার পরের কয়েক বছর বৃষ্টি বেশি হয় ও তাপমাত্রা কমে আসে। এই স্বাভাবিক ওঠানামার কারণেই আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন দেখা যায়।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন দায়ী নয়
প্রচলিত ধারণার বিপরীতে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করা যায় না। জলবায়ু সব সময়ই একরকম থাকে না, এর স্বাভাবিক ওঠানামা আছে।তারা উদাহরণ হিসেবে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৭২ সালের মে মাসে রাজশাহীতে। এই রেকর্ড এখনো ভাঙেনি। তখনো তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রির আশপাশে থাকা স্বাভাবিক ছিল। এটি প্রমাণ করে যে জলবায়ুর পরিবর্তন অতীতেও হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এটা জলবায়ুরই একটি স্বাভাবিক পরিবর্তনশীলতা।আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, অঞ্চলভেদে এবার অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বৃষ্টি হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষাকাল বিদায় নেবে।