দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ: সেতুমন্ত্রী
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, “সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাক-প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।"
আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এদিন এক প্রস্তুতিমূলক সভায় অংশ নেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
বৈঠকের পর একজন সংবাদিক মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে।
পরিবহন মন্ত্রী তখন বলেন, "হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেটা নেওয়া হয়েছে আপনার ওই দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটা। তিনটি প্রস্তাব আছে, তার এক নম্বর প্রস্তাব আপনি যেটা বলেছেন ওই রুটে।
"আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি, বলব আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতি চলছে।"
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২২ সালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে প্রথম পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হয়। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া ঘাটের সঙ্গে রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাটের সংযোগ ঘটাতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের আলোচনাও চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ওই সেতু হলে ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার দুরত্ব কমবে।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার সহযোগিতায় ১৯৯৯ সালে ওই সেতুরে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হয়। ২০০৫ সালের মে মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে।
২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে তখনকার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে অর্থ চাওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন ওই সেতুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসছে।