দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতি : এ দুঃসময়ে ব্যাপক সরকারি পদক্ষেপ জরুরী
ক্রমেই দ্রব্যমূল্য আমজনতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মধ্যবিত্তের একরকম সমস্যা এবং নিম্নবিত্তের আরেক রকম সমস্যা। বাচ্চাদের মাদরাসা-স্কুল ফি, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস সিলিন্ডার ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে সকলের।
অন্যদিকে বিজ্ঞমহলের মতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্মরণকালের ভয়াবহ খারাপ অবস্থায় রয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ততই কমছে। সৎ ব্যবসায়ীরা আছেন চরম চাপ ও কষ্টে।
একশ্রেণির বাড়তি সুবিধাভোগী গুটিকতেক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট (খোদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষায়) নিয়ন্ত্রণ করছে নিত্যপণ্যের পুরো বাজার। ভাবে বোঝা যায় তাদের কাছে সরকারও জিম্মি। অর্থাৎ তারা ক্ষমতাবানদের চেয়েও বড় ক্ষমতাবান। সকল ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
এমতাবস্থায় আমজনতার কাহিল অবস্থা দেখার মনে হয় কেউ নেই। ক্ষমতাসীনেরা বিভিন্নভাবে প্রায় দেড় দশক ধরে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করছে। তবুও তাদের পেট ভরছে না। তারা দেশ-বিদেশে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন অনন্তকাল ক্ষমতায় টিকে থাকতে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর দৌড়ঝাঁপ ভবিষ্যতে তারা কীভাবে ক্ষমতায় আসবে তা নিয়ে। তাহলে জনগণকে দেখবে কে?
এ দুঃসময়ে দরকার ব্যাপক সরকারি পদক্ষেপ। সকল বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত রেখে নজর দেওয়া দরকার গণমানুষের ডাল-ভাত ও নিত্যপণ্য জোগান দেওয়ার দিকে। যে পর্যন্ত নিত্যপণ্যের বাজার গণমানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে না আসবে, তত দিন টিসিবিকে সক্রিয় করে দেশব্যাপী বড় বড় স্টোর খুলে ন্যায্যমূল্যে অথবা ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি করতে হবে সাধারণ মানুষের কাছে। শুধু ট্রাকের বিক্রি যথেষ্ট নয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে হেফাযত করুন। মানুষের জান-মাল-ইজ্জত রক্ষা করুন এবং অসহায় মানুষের সহায় হোন।