ধর্মঘটে শ্রমিকরা, ক্ষতির মুখে চা বাগান
চা বাগানে এখন ভরা মৌসুম। আর এই সময়েই দৈনিক মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘটে গেছেন শ্রমিকরা। তাতে কচি পাতা তোলা এবং লক্ষ্যমাত্রাতে পৌঁছানোর শঙ্কায় পড়েছে চা বাগানগুলো। একদিকে তাতে যেমন ক্ষতি চা বাগান মালিকদের তেমনই ক্ষতির শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা।
চা বাগানের শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা। এই মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে শ্রমিকরা ধর্মঘটে গেছন। প্রথমে টানা তিন থেকে চারদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি চিল। এর পর একদিন পূর্ণদিবস কর্মবিরতি বা ধর্মঘট পালন করেছেন মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সিলেটসহ দেশের ২৪১টি চা বাগানের শ্রমিকরা। সাপ্তাহিক ছুটি ও জাতীয় শোক দিবসের জন্য দুদিন কর্মসূচি শিথিল করেছিল বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন। আজ মঙ্গলবার থেকে শ্রমিকদের ফের ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
মে মাসের শেষ তেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে চা বাগানের ভরা মৌসুম বলা হয়। এই সময়ে চায়ের পাতা সংগ্রহ করা হয়।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি চা বাগানের ব্যবস্থাপক জানান, ‘‘এখন পাতা তোলার ভরা মৌসুম। এখন যদি কচি পাতা সংগ্রহ না করা যায় তাহলে বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। যেসব পাতা উঠানো হয়েছে শ্রমিকরা কাজ না করায় সেসব পাতা বাগানের সেকশনে সেকশনে নষ্ট হচ্ছে। এতে বাগান কর্তৃপক্ষ ক্ষতির মুখে পড়বে।’’
এদিকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের একজন নেতা বলেন, ‘‘শ্রমিকরা নিরুপায়। যে বেতন দেওয়া হয় সেই বেতনে চলে না। ১২০ টাকায় কে চলতে পারে? বাজারে একজন সাধারণ শ্রমিকের দৈনিক মজুরি কত? আর আমরা কত পাই? একদিন কাজ না করলে পরিবার, বাচ্চা, বাবা-মাকে নিয়ে একদিন অভুক্ত থাকতে হয়। এই অবস্থায় নিজেদের লোকসান স্বীকার করেও ভালো কিছুর জন্য আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছি।’’