শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সরকারি উদ্যোগে ‘নির্ভরতা কমিয়ে’ সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 17 অক্টোবর 2026, 08:11 সকাল • 8 বার পঠিত
ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সরকারি উদ্যোগে ‘নির্ভরতা কমিয়ে’ সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানিয়েছেন বলে তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমা ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে সকালে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান তিনি।

শিপলু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।”

উপ প্রেস সচিব বলেন, রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস।

“সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।”

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, “তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।”

সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে যান কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে। সেখানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষে কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সাথে কথা বলেন।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের কাছে জানতে চান তারা কেমন চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাও জানতে চান।”

‘হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ’

সকালে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচার কক্ষ, ল্যাবরেটরিসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।

উপ প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন, হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করেছেন তিনি।

“পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের পাশে চান প্রধানমন্ত্রী

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল থেকে প্রধানমন্ত্রী যান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব বলেন, তারেক রহমান বলেছেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।

“দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

‘ক্লিন ঢাকা: সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে’

যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে।

তারেক রহমানের কথায়, সবাই মিলে চেষ্টা করলে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে।”

এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

‘জন্মদিনে গাছ উপহার দাও’

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের তাদের জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’

রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।

‘‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।”

উপ প্রেস সচিব বলেন, ‘‘ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে।”

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না। “

এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান প্রধানমন্ত্রী।

রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে প্রধানমন্ত্রী যান মীরপুরে হার্ট ফাউন্ডেশনে ।