চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি দুই দিনের রিমান্ডে
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থেকে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশিকে দুই দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলাম।
মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিককে ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনে করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
“এছাড়া মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিতে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে ২০ দিন সময় দিয়েছেন আদালত।”
মঙ্গলবার ওই ৬৩ নাগরিককে আদালতে হাজরি করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত বৃহস্পতিবার নগরীর খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার সাততলা একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ২০ নারীসহ ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা বৈশ্বিক ‘অনলাইন প্রতারণার’ ফাঁদ তৈরি করছিলেন বলে ভাষ্য পুলিশের।
তাদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
পুলিশ বলছে, ভবনটির মালিক একজন প্রবাসী। দেড় মাস আগে তারা ভবনটি ভাড়া নিয়েছিলেন। মহসিন নামে এক ব্যক্তি এই বিদেশিদের ভবনটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন, যার সঙ্গে চীনা নাগরিকদের সখ্যতা আছে।
মামলার তদন্ত এবং অভিযানে থাকা একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, মূলত এ চক্রটি বিভিন্ন ধরনের সাইট খুলে অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে ‘প্রতারণার’ আশ্রয় নিত এবং ‘হ্যানি ট্র্যাপের’ মত ঘটনা ঘটাত বলে তাদের কাছে প্রাথমিক তথ্য আছে।
তারা বলেছেন, এ বিদেশিদের ‘প্রতারণার’ প্রথম বিষয় ছিল অনলাইন শপিং সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের অর্ডার নিয়ে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ ও পণ্য না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা। তারা বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট অ্যাপ হ্যাক করার প্রক্রিয়া করেছিলেন, এজন্য ভবনের ফ্ল্যাটে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস স্থাপন করেছিলেন।
গ্রেপ্তার বিদেশিদের মধ্যে লাওসের ৩৬ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচ এবং নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে আছেন।