বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

চরম নৃশংসতার কথা স্বীকার করলো মিয়ানমারের সেনা

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 24 জুলাই 2022, 08:50 সকাল 246 বার পঠিত
চরম নৃশংসতার কথা স্বীকার করলো মিয়ানমারের সেনা

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নির্দেশানুসারে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছেন দলত্যাগী কয়েকজন সেনা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে কয়েকজন সেনা প্রথমবার দেশজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনে কিভাবে তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। ওই সাক্ষাৎকারে একজন করপোরালসহ ছয় সেনা ও কয়েকজন ভুক্তভোগীর বক্তব্য নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি তারা সামরিক বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করেছেন। তারা বর্তমানে জান্তাবিরোধী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের (পিডিএফ) সাথে রয়েছেন। সাক্ষাৎকার দেয়া কারও প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এমনই এক সেনা মাউং উ বলেন, তারা আমাকে নির্যাতন, লুটপাট, এবং নিরপরাধ লোকদের ধর্ষণ করতে আদেশ দিয়েছিল। আমাকে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল একজন রক্ষী হিসেবে। কিন্তু আমি ছিলাম এমন একটি ব্যাটালিয়নের অংশ যারা ২০২২ সালের মে মাসে একটি বৌদ্ধ আশ্রমে লুকিয়ে থাকা বেসামরিক লোকদের হত্যা করেছিল। আমাদের আদেশ দেয়া হয় পুরুষদের সবাইকে ধরে আনতে এবং তার পর তাদের গুলি করে হত্যা করতে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো যে, আমাদেরকে বয়স্ক মানুষ এবং একজন নারীকেও হত্যা করতে হয়েছিল।

দলচ্যুত এই সেনারা জানান, গত বছর ২৯শে ডিসেম্বর মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে ইয়াই মিয়েত গ্রামের ওপর চক্কর দিতে থাকে তিনটি হেলিকপ্টার। এতে থাকা সেনাদের ওপর আদেশ ছিল গুলি চালানোর। সেখানে কী ঘটেছিল তার বর্ণনা দিয়েছেন পাঁচ জন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি। তারা আলাদা আলাদাভাবে বিবিসি’র সঙ্গে কথা বলেছেন।

তারা বলছেন, তিনটি দলে ভাগ হয়ে সেনাবাহিনী গ্রামে ঢোকে, এবং নির্বিচারে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর গুলিবর্ষণ করতে থাকে। কর্পোরাল আউং বলেন, আদেশ ছিল, যে কাউকে দেখামাত্র গুলি করতে হবে। সেনাদের দেখার পর সেখানকার বাসিন্দারা দৌড়াতে শুরু করে এবং আমরা তাদের গুলি করতে থাকি।