বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

চাকরিতে ড. সাইফুলের প্রাথমিক জীবন

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 27 এপ্রিল 2026, 05:41 বিকাল 170 বার পঠিত
চাকরিতে ড. সাইফুলের প্রাথমিক জীবন

মাদ্রাজ থেকে ড. মো: সাইফুল ইসলামের বিএসসি পড়াশুনা শেষ হলো ২০০৪ সালের মে মাসে। এরপর সেখান থেকেই সার্টিফাইড সফটওয়্যার টেস্ট প্রফেশনালের (সিএসটিপি) কোর্স করে বাংলাদেশে ফিরে এলেন ওই বছরের অক্টোবরে। 

দেশে ফিরে প্রথমে একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে যোগদান করেন। সেটা ২০০৪ সালের বছরের শেষ দিকের ঘটনা। এরপর বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি কোম্পানি ডেটাসফট সফটওয়্যার সিস্টেমস লিমিটেডে এসকিউএ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে। এই চাকরিতে তিনি থাকেন ওই বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। 

২০০৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি ইউনিকা নামের জাপানি একটা ফার্মে যোগদান করেন। এটা আগে থেকেই বিখ্যাত কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ছিল। ওখানে হাই পেইড স্যালারি দেওয়া হতো। এছাড়া ওখানে যারা কাজ করতেন তারা সব ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন। বুয়েটের, নর্থ সাউথের টপাররা সেখানে কাজ করতেন। জাপানের প্রায় ১০০ হাসপাতাল - ক্লিনিকে এই কোম্পানির হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ইআরপি রান করতো। ওটা ছিল এই কোম্পানির প্রোডাক্ট। ওখানে এক বছরের মতো কাজ করেন সাইফুল। 

২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউনিকায় কাজ করে সাইফুল পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে। সেখানে ছিলেন ৩ মাসের মতো। ওখানে মূলত জব সার্চ ও লেটেস্ট টেকনোলজির ওপর সময় ব্যয় করেন। এরপর ২০০৭ সালের শুরুর দিকে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। 

২০০৭ সালের মার্চে সাইফুল বাংলাদেশ ইন্টারনেট প্রেস লিমিটেড (বিআইপিএল) এ যোগ দেন। এটা ছিল সিএমএমআই লেভেল থ্রি কোম্পানি। বাংলাদেশে এই কোম্পানিটি প্রথম সিএমএমআই লেভেল থ্রি অর্জন করে। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করেন ২ বছর। 

এই ২ বছরের অর্জনের মধ্যে আছে সিএমএমআই লেভেল থ্রি অ্যাপ্রাইজাল হিসেবে তার কাজ করা। এখানেই টিমের লিড হিসেবে তিনি প্রোমোশন পান। সফটওয়্যার টেস্টিং টিমের লিড বা অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি ঘটে।
 
ওই প্রতিষ্ঠানে থাকার সময়ই ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে সাইফুল তাবলীগের ৩ চিল্লায় চলে যান। যদিও পদত্যাগপত্র দিয়ে যান তবে এই কোম্পানিতে তার সাথে লিখিত চুক্তি ছিল যে, তাবলীগের ৩ চিল্লা বা ১২০ দিন শেষ করে তিনি আবার প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন। এমডি জেনারেল মিটিঙে এই বিষয়ে এইচআরকে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন যাতে ফিরে এসে তিনি অবশ্যই পুনরায় অফিসে যোগ দেন। 

তাবলীগে সময় দিয়ে এসে প্রতিষ্ঠানটিতে ২০০৮ এর আগস্টে ফের যোগ দেন সাইফুল। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করেন ২০০৯ সালের মার্চ অব্দি। এই বছরের মার্চে গিয়ে তিনি যোগ দেন তাসাউর ইন্টারঅ্যাকটিভ নামে একটি সফটওয়ার ফার্মে। এটি ছিল সৌদি ভিত্তিক একটি কোম্পানি। 

ওখানে কাজ করার সময় বার্কলেস ফ্যান্টাসি ফুটবল লিগের মতো একটি সফটওয়ার সাইফুলরা ডেভেলপ করলেন। এটি করা হয়েছিল সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের জন্য। প্রায় ২ মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট ছিল সেটা। নাম ছিল আওয়ারলিগডটকম। 


বড় আকারের ওই কাজের পর কর্তৃপক্ষ তাদের বললেন, বাসা বাড়ির মতো অফিসে আছেন সেখানে থাকতে চান নাকি কমার্শিয়াল অফিসে যেতে চান নাকি ওই অফিসেই থেকে ভালো একটা ভালো  স্যালারি ইনক্রিমেন্ট চান। ইঞ্জিনিয়ারদের একটা টেবিল চেয়ার আর ল্যাপটপ হলেই চলে বলে তারা জানালেন ভালো স্যালারি ইনক্রিমেন্ট চান। দুঃখজনক হলেও সত্যি ওই বছর যে ইনক্রিমেন্ট হলো সেটা ছিল সাইফুলের চাকরি জীবনের সবচেয়ে কম ইনক্রিমেন্ট। ২ মিলিয়ন ডলারের বিজনেস করার পর এমন কম ইনক্রিমেন্টে সাইফুলরা হতাশ হলেন। 

তাসাউরে সাইফুল কাজ করেন ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওখানে থাকতেই বিয়ে করেন তিনি। আর এই চাকরি ছাড়ার পেছনে প্রতিষ্ঠানের কমিটমেন্ট ঠিক না থাকা একটা বড় কারণ। ঠিক মতো ইনক্রিমেন্ট হলো না। বোনাসও ঠিকঠাক ছিল না। আংশিক দিচ্ছিল। 

তবে তাসাউর ছেড়ে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো স্যামসাংয়ে যোগ দান করা।