চা বাগানে পূজা ও উৎসবের মধ্য দিয়ে পাতা তোলার কাজ শুরু
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ পদ্মছড়া চা বাগানের শ্রমিক বিজয়া গোয়ালা বলেন, “চা উৎপাদন প্রকৃতিনির্ভর। সারা বছর যেন হাত ভরে পাতা তুলতে পারি, তাই বাগানের ম্যানেজম্যান্ট ও শ্রমিক মিলে ভগবানের নামে পূজা দিয়ে পাতা তোলা শুরু করেছি।” চায়ের মৌসুম শুরু হওয়ার পর, বাগানগুলোতে বৃষ্টির ছোঁয়ায় নতুন কুঁড়ি আসতে শুরু করেছে, এবং সবুজের সমারোহ ফিরে এসেছে।
প্রতি বছর ডিসেম্বরে গাছ ছাঁটাই বা কলম করার পর, চা উৎপাদন বন্ধ থাকে এবং সেচ ও বৃষ্টির পর নতুন কুঁড়ি গজানোর সময় চা পাতা তোলার কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে ১০৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল, তবে ২০২৪ সালে ৯৩ মিলিয়ন কেজি উৎপাদিত হয়, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ কম ছিল। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইসমাইল হোসেন জানান, ১৬৮টি চা বাগানে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে। চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নিয়মিতভাবে প্রুনিং (ছাঁটাই) করা হয়, যার ফলে চা গাছে নতুন পাতা গজায়।
চা গাছের ছাঁটাইয়ের চারটি ধাপ রয়েছে—‘লাইট প্রুনিং’, ‘ডিপ স্কিপ’, ‘মিডিয়াম স্কিপ’, এবং ‘লাইট স্কিপ’। এসব নিয়ম মেনে ছাঁটাই করলে চা গাছে নতুন পাতা গজায়। কমলগঞ্জ শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগানের শ্রমিক আশালতা বলেন, মার্চের শুরুতে কিছু বৃষ্টি হওয়ায়, বাগানে নতুন কুঁড়ি আসতে শুরু করেছে।
মাধবপুর চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক তাপস কুণ্ড জানান, চায়ের জন্য পরিমিত বৃষ্টিপাত ও সূর্যের আলো প্রয়োজন। অত্যধিক বৃষ্টি বা প্রচণ্ড তাপদাহ চায়ের জন্য ক্ষতিকর। শ্রীমঙ্গল জেরিন চা বাগানের মহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, চা পাতা তোলার কাজ শুরু হওয়ায় বাগানে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে এবং এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশা রয়েছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির পরিচালক মো. মহসীন মিয়া মধু বলেন, তার বাগানটি তিনি সন্তানের মতো পালন করেন, এবং তার মূল লক্ষ্য কোয়ালিটিফুল চা উৎপাদন। চা সংসদ সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান গোলাম মো. শিবলী বলেন, খরা চায়ের উৎপাদনের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা, কারণ খরায় চা গাছ মারা যেতে পারে এবং বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক রফিকুল হক জানান, উৎপাদন বৃদ্ধি ও কোয়ালিটিফুল চা তৈরির জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ড বছরজুড়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, চা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল, এবং এর উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগতমান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।