বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
জাতীয়

বেনজীরের জামিন: দুদকও কিছু ‘জানে না’

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন 02 আগস্ট 2026, 01:31 দুপুর 48 বার পঠিত
বেনজীরের জামিন: দুদকও কিছু ‘জানে না’

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ কীসের ভিত্তিতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে।

কমিশনের মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বলছেন, বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় দুদকের কোনো গাফিলতি ছিল বলে তারা মনে করেন না।

রোববার দুদকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিবলী বলেন, বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বাইরে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

“আপনারা যেমন মিডিয়া, পত্রপত্রিকায় জানছেন, আমরাও জানছি। আইনি যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সব সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চয় নেবে।”

বেনজীরকে বাংলাদেশে ফেরাতে দুদকের সুপারিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেওয়া ব্যবস্থার পরও তিনি মুক্তি পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেই প্রশ্ন রাখা হয় দুদকের মহাপরিচালকের সামনে।

উত্তরে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় না।”

দুদকের পক্ষ থেকে ‘প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ’ নেওয়া হয়েছে দাবি করে শিবলী বলেন, আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধান ও আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুদক মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট বা এমএলএআর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে সেটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়।

“এখন আইনগত যে বিষয়গুলো আছে, নিশ্চয় সবাই মিলে আমরা খতিয়ে দেখব। আমাদের এখান থেকে যা যা পাঠানোর, যা যা করার, আমরা সবই করেছি, এটুকু বলতে পারি।”

কোন আইনি ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত বেনজীরকে মুক্তি দিয়েছে–এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা আসলে বিস্তারিত না জেনে উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না।”

বাংলাদেশের অনুরোধে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীর সেখানে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে রোববার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর আসে।

সেখানে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত শর্তসাপেক্ষে বেনজীরের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই তিনি কারামুক্ত হন।

জামিনের শর্ত হিসেবে বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরের ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবিও জানায়, বেনজীরের মুক্তির বিষয়ে কোনো তথ্য তারা পায়নি।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং ওই আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল’ ফার্ম) নিয়োগ করেছে।”

অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুদকের তদন্তের মধ্যে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল বেনজীরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি করা হয়। সেই নোটিসের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ গত ১২ জুন ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায়।

এরপর ১৪ জুন সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে।

দুদক তখন প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ও অনুবাদ করে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব তৈরি করে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর প্রায় এক মাস পর বেনজীরকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ‘নীতিগত সম্মতি’র পাশাপাশি আরও কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা চেয়ে বাংলাদেশকে চিঠি দেয় দুবাই পুলিশ।

গত ২১ জুলাই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দুবাই পুলিশের চিঠির জবাব ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি তখন বলেন, চাওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে বেনজীরের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার নথিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হবে।

পাসপোর্টে জালিয়াতি এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগে বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। এর মধ্যে একটি মামলার বিচার চলছে, বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন।