বাগেরহাটে মা-ছেলে-নানি খুন: নেপথ্যে পরকীয়া, বলছে পুলিশ
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একই পরিবারের তিনজনকে খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
তিনজনকে হত্যার ঘটনার এক মাস পর রোববার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এই দাবি করেন।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ এ সিদ্ধান্তে এসেছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- জাহিদুল ইসলাম (৪০), তার দুই সহযোগী আসাদুল শেখ (৪১) ও মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু (৩৮)। এর মধ্যে আসাদুল ও আরিফকে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়। আর জাহিদুল আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
৪ অগাস্ট উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামে নিজেদের ঘর থেকে আহাদ আলী (২৫), তার মা মনিরা বেগম (৬০) এবং নানি রাশিদা বেগমের (৯৩) লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন মনিরার বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে জাহিদুলের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। সেই পরিবারের এক নারীর সঙ্গে জাহিদুলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এ নিয়ে জাহিদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি শুরু হয় এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরই জের ধরে ক্ষুব্ধ হয়ে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন জাহিদুল।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন জাহিদুল হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে প্রথমে আহাদ আলীকে (২৫) এবং পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে তার মা মনিরা বেগম (৬০) ও নানি রাশিদা বেগমকে (৯৩) শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
এ সময় অন্য দুজন তাকে সহযোগিতা করেন এবং পরে তাদের ব্যবহৃত চারটি মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যান। সেই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। শনিবার আসাদুলের বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।