বাবুল-মিতুর সন্তানদের মাগুরায় পিবিআইর জিজ্ঞাসাবাদ
চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো মাহমুদা আক্তার মিতুর দুই ছেলে-মেয়েকে মাগুরায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই। এই প্রথম মিতু ও সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের দুই সন্তানকে এভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলো।
বাবুল আক্তার স্ত্রী মিতু হত্যার অভিযোগে আসামি হয়ে এখন কারাগারে। তার বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল ওয়াদুদের কাছে মাগুরায় শিশু দুটি থাকে। মিতু হত্যা নিয়ে তাদের সঙ্গে পিবিআই কথা বলতে চাচ্ছিল। কিন্তু বাবুলের পরিবারের কাছে থাকায় তাদের পাচ্ছিল না।
আজ সোমবার তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘মহামান্য হাই কোটের নির্দেশে জেলা সমাজসেবা অফিসারের কক্ষে শিশু দুটির দাদা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, প্রবেশন অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘হাই কোর্টের আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে সুন্দর পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে।’’
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ডেকে এনে ১২ ও ৭ বছরের এই দুই শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চট্টগ্রাম পিবিআই এই জিজ্ঞাসাবাদ করে।
মায়ের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বাবার বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে ‘মনে নেই’, ‘জানি না’ জাতীয় উত্তর দিয়েছে ছেলেটি। তদন্ত কর্মকর্তার মনে হয়েছে, তাকে অনেক কিছুই শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়েটিকে ‘তেমন কিছু’ জিজ্ঞাসা করা হয়নি বলে পিবিআইর কাছ থেকে জানা যায়।
২০১৬ সালের ৫ জুন চট্টগ্রামে সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয় বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে। মিতুর সঙ্গে তখন তার বড় সন্তান ছিল। ছেলেটির বয়স তখন সাত। ঘটনার সময় পদোন্নতি পেয়ে বাবুল আক্তার ছিলেন ঢাকায়। ফিরে তিনি হত্যা মামলা করেন। দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এই হত্যাকাণ্ড।
কয়েক মাস পর নাটকীয়ভাবে সব বদলে যায়। চাকরি ছাড়েন বাবুল আক্তার। পিবিআই মামলাটির তদন্তে আসার পর তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। গত বছর তারা জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী খোদ বাবুল আক্তার।
মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন পরে আরেকটি হত্যামামলা করেন। তাতে বাবুল আক্তারসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। সেই মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার করে পাঠানো হয় কারাগারে।