আওয়ামী লীগ নেতার পরিকল্পনাতেই টিপু খুন: র্যাব
ঢাকার মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তারই দলের এক স্থানীয় নেতার পরিকল্পনায়। র্যাব এই তথ্য জানিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুককে সেই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ছে।
ওমর ফারুকসহ মোট চারজনকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় র্যাব। অন্য তিনজন হলেন- আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ (৩৮), নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির (৩৮) এবং মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশ (৫১)।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল-মঈন বলেছেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
র্যাব জানায়, রাজধানীর ভিন্ন তিনটি এলাকা থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের নজরদারীতে ব্যবহৃত মোটরবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ওই টিপুকে হত্যা করার জন্য দেওয়া ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে।
আরো জানানো হয়, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টিপু ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান ছিল।’
এই হত্যাকাণ্ড ঢাকায় হলেও মূল পরিকল্পনা দুবাইয়ে হয়েছে জানিয়ে র্যাবের মুখপাত্র জানান, নাসির, কাইল্লা, পলাশসহ আরো কয়েকজন টিপুর অবস্থান সম্পর্কে দুবাইয়ে মুসার কাছে তথ্য পাঠাতো। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর নাছির মুসার কাছে চারবারের মতো টিপুর অবস্থান সম্পর্কে জানায়।
আলোচনায় এখন উঠে এসেছে মুসার নাম। পুলিশের ভাষ্য, এই মুসা তালিকাভূক্ত শীর্ষসন্ত্রাসী প্রকাশ-বিকাশের সহযোগী।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ ঢাকার শাহজাহানপুরের আমতলী এলাকায় অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা টিপু। জ্যামে মাইক্রোবাসে বসে ছিলেন তিনি। এ সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীর গুলিতে পাশে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান প্রীতিও মারা যান। গুলিতে আহত হন টিপুর গাড়ি চালক মুন্না।
ওই ঘটনায় টিপুর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলি শাহজাহানপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই হত্যাকাণ্ডের পর ২৭ মার্চ বগুড়া থেকে মাসুম মোহাম্মদ আকাশ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আকাশ মূল খুনি। খুন করে জয়পুরহাট সীমান্ত থেকে তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে বগুড়ায় ফিরে গিয়ে গ্রেপ্তার হন।
আদালতে হাজির করে আকাশের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছিল, আকাশ মূলত ভাড়াটে খুনি। চুক্তির বিনিময়ে খুন করেছেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের আরো বিস্তারিত উদ্ধার করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাজধানীর কমলাপুর থেকে অস্ত্রসহ দামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার ধরা পড়েন আরো চারজন। এ নিয়ে টিপু হত্যায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।