আজভস্তাল থেকে নারী, শিশু, বয়সীদের উদ্ধার
ইউক্রেনের মারিউপোল শহরের আজভস্তাল ইস্পাত কারখানার বেসামরিক মানুষের শেষ পরিণতি নিয়ে অনেকের আশঙ্কা ছিল। তবে শেষটা ভালোই হলো। ইস্পাত কারখানাটি থেকে অবরুদ্ধ সব নারী, শিশু ও বয়সী বেসামরিক নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শনিবার তাদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
মারিউপোল শহরটার দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নজর ছিল রাশিয়ার। সপ্তাহদেড়েক আগে এই শহরে নিজেদের বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু শহরের ইস্পাত কারখানা আজভস্তালে কিছু সেনা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে আটকে গিয়েছিলেন অনেক বেসামরিক নাগরিকও।
জাতিসংঘ ও রেডক্রসের মাধ্যমে এক সপ্তাহ আগে থেকে আজভস্তাল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। তারা অবশ্য এখনো সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার খবর জানায়নি। তবে ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক সেই খবর জানিয়েছেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অবশ্য তার বলা সংখ্যার চেয়ে অনেক কম নাগরিককে সরানোর কথা বলা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আজভস্তাল থেকে ৩০০’এর বেশি বেসামরিক নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। রুশ মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, ৩ দিনে আজভস্তাল ইস্পাত কারখানা থেকে ৫১ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এইসব বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে কোথায় নেওয়া হয়েছে এখনো তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। আগে যেসব বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধার করা হয়েছিল তাদের ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাতে কয়েকদিন সময় লেগেছিল।
রাশিয়া মারিউপোল অবরুদ্ধ করে ফেললেও ইউক্রেনের সৈন্যরা শুধু একটি জায়গায় তাদের অধিকার ধরে রেখেছিল। সেটি আজভস্তাল ইস্পাত কারখানা। রুশ বাহিনী তাদের আত্মসমর্পণের শর্ত দিয়েছিল। কিন্তু আজভস্তালে অবস্থানরত ইউক্রেনের সেনারা কখনো আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়নি। তারা তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে।
এখন আজভস্তাল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের উদ্ধারের পর সেখানে থাকা প্রায় দুই হাজার ইউক্রেনীয় যোদ্ধাকে উদ্ধারের জন্য দেশটির সরকারের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।