আফরোজা হত্যা মামলায় গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড
প্রায় চার বছর আগের ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকায় সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেডের কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানাকে হত্যার ঘটনায় গাড়িচালক হৃদয় বেপারী ওরফে হৃদয় মিঞাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন চৌধুরী বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরে জহিরুল ইসলাম জানান, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে।
রায় ঘোষণার আগে কারাগার থাকা হৃদয়কে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শুনে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বিচারকের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমি এই রায় মানি না।"
পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আফরোজা সুলতানা ছিলেন সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেডের এমআইএস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ম্যানেজার। ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার ফ্ল্যাটে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরদিন তার ভাই মো. আল মজিদ বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় এই হত্যা দায়ের মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের এসআই মো. রিপন উদ্দিন তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
সিসিটিভি ভিডিও, আসামির স্বীকারোক্তি ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামি হৃদয় অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে বিপুল টাকা হেরে যান। দেনা মেটাতে স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের জন্য তিনি আফরোজাকে একা পেয়ে চাকু দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন।
পরে আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মাটির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৯ ইঞ্চি লম্বা রক্তমাখা চাকু, লুণ্ঠিত ২২.০৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, রক্তমাখা টিস্যু পেপার ও লুণ্ঠিত ৬০০ টাকাসহ ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ।
২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এ মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য শোনে।
আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার হৃদয়কে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিল আদালত।