৫৭ বছর পর ফের মিতালী, চলল এক্সপ্রেস
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৃতীয় ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেল। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এল প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন। আজ বুধবার ভারতীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ১৭ জন যাত্রী নিয়ে নতুন এই যাত্রা শুরু হয়। এই ১৭ যাত্রীর মধ্যে ভারতীয় ৪ জন। বাংলাদেশি ১৩ জন।
বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন আগেই এই উপলক্ষ্যে ভারত গেছেন। এদিন তিনি ও ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সুবজ পতাকা নেড়ে সংকেত দেন। তাতে ৫৭ বছর পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে চালু হয় প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন।
দুই রেলমন্ত্রী ছিলেন দিল্লিতে। সেখানে রেলওয়ে বোর্ডের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন নিউ জলপাইগুড়িতে।
মিতালি এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শুরু করে ভারতের ৫৯ কিলোমিটার রেলপথ পাড়ি দেয়। তারপর হলদিবাড়ির খালপাড়া সীমান্ত রেলগেট দিয়ে এপার বাংলার চিলাহাটি সীমান্তে ঢোকে দুপুরে। এদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ট্রেনটির ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনের গন্তব্যে পৌঁছার কথা।
বৃটিশ আমল থেকে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ গুরুত্ব বহন করত। তখন দার্জিলিং থেকে খুলনা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত এই রেলপথে একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন নিয়মিত চলাচল করত। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর তা বন্ধ হয়ে যায়।
২০২০ সালে দু্ই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভার্চুয়াল দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে যৌথভাবে এই রেলপথ উদ্বোধন হয়েছিল ফের। ৫০ বছর পর। এর প্রায় আট মাস পর গেল আগস্টে শুরু হয় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল।
২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে আসেন। তখন দুই দেশের মধ্যে তৃতীয় ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস উদ্বোধন করা হয়। তবে করোনাভাইরাসের কারণে সেটি চালু হল ১৪ মাস পর।
মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে বাংলাদেশের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে চলাচল করবে। ট্রেনটি হলদিবাড়ি (ভারত)- চিলাহাটি (বাংলাদেশ) রুট দিয়ে চলাচল করবে। এ ট্রেনের পরিচালন সময় ৯ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। নিউ জলপাইগুড়ি ছাড়বে ১১:৪৫ (আই এস টি), ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন পৌঁছাবে ২২:৩০ ( বি এস টি), অনুরূপভাবে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ছাড়বে ২১:৫৯
(বি এস টি) নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছাবে ৭:১৫ মিনিট।
ট্রেনটি সপ্তাহে দুই দিন চলাচল করবে। ভারত থেকে রবি ও বুধবার, বাংলাদেশ থেকে সোম ও বৃহস্পতিবার। ট্রেনের ভাড়া এসি বার্থ ৫ হাজার ২৫৫, এসি সিট ৩ হাজার ৪২০, এসি চেয়ার ২ হাজার ৭৮০ টাকা।
করোনার কারণে দীর্ঘ ২৬ মাস ভারত-বাংলাদেশ অন্য ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। গত ২৯ মে থেকে ফের দুই দেশের মধ্যে চালু হয়েছে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেস। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভাগের পর প্রথম দু’দেশের মধ্যে ২০০৮ সালে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হয়। এই বছরেই পরে বন্ধন এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে।