শনিবার ২৯ নভেম্বর ২০২৫, অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪৩২, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

রাজনীতি

দেশে ফেরার ‘একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের’ সুযোগ দেখছেন না তারেক

 প্রকাশিত: ১২:১০, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

দেশে ফেরার ‘একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের’ সুযোগ দেখছেন না তারেক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘সংকটময় পরিস্থিতিতে’ ছেলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার দেশে ফেরার ‘জটিলতা’ নিয়ে কথা বলেছেন।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’।

এছাড়া মায়ের রোগমুক্তির জন্য দেশের সব স্তরের নাগরিকের আন্তরিক প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারেক রহমান।

শনিবার সকাল পৌনে ৯টায় ফেইসবুক পেইজে দেওয়া সেই পোস্টে মায়ের সংকটাপন্ন সময়ে তার পাশে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করে তারেক বলেন, “এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।”

বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর’ বর্ণনা করে তারেক বলেন, “স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।”

মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন তারেক।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যাহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।”

দেশ ও বিদেশের চিকিৎসকদল সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তারেক।

“দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মতো তাঁদের উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সব প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা হয়েছে।”

পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক বলেন, “সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সবার প্রতি দোয়া অব্যাহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।”

৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর মধ্যে বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আমি রাত ২টা পরযন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলাম। ডাক্তাররা ম্যাডামকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

শুক্রবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।