থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যার পর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু
থাইল্যান্ডে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার পর শনিবার ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই বন্যার ফলে সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছেন।
চলতি সপ্তাহে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশে ভারী বর্ষণে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং এদের মধ্যে অনেকে বাড়ির ছাদে উঠে উদ্ধারকারীদের অপেক্ষায় রয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শুক্রবার, ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধার কর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সুমাত্রা দ্বীপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালের মর্গে লাশ রাখার জায়গা ছিল না। সেখানে এতো বেশি সংখ্যক লাশ এসেছে যে তা ওই মর্গের ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্মীরা লাশগুলোকে সেখান থেকে ফ্রিজিং ট্রাকে স্থানান্তরিত করেন।
দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সোংখলা প্রদেশে পানির স্তর তিন মিটার (৯.৮ ফুট) উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং গত এক দশকের মধ্যে অন্যতম এই ভয়াবহ বন্যায় কমপক্ষে ১৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত হাট ইয়ে জেলার আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
আমারিন টিভিতে সম্প্রচারিত ফুটেজে তাকে আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করতে দেখা যায়।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি যখন সরকারে আছি, তখন এই ঘটনা ঘটতে দেওয়ার জন্য আমাকে সত্যিই তাদের (ক্ষতিগ্রস্তদের) কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে, পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা।’
তিনি জেলার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের জন্য দুই সপ্তাহের সময়সীমা ঘোষণা করেন।
থাই সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে যাওয়া পরিবারের জন্য দুই মিলিয়ন বাথ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।