শনিবার ২৯ নভেম্বর ২০২৫, অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪৩২, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

৬৯ মৃত্যু, ৩৪ নিখোঁজ: ভয়াবহ বন্যার বিরুদ্ধে লড়ছে শ্রীলঙ্কা

 প্রকাশিত: ১২:১২, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

৬৯ মৃত্যু, ৩৪ নিখোঁজ: ভয়াবহ বন্যার বিরুদ্ধে লড়ছে শ্রীলঙ্কা

বাড়তে থাকা বন্যার পানিতে আটকে পড়া শত শত লোককে উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে শ্রীলঙ্কার সেনাদের।

এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত ভয়াবহ এ দুর্যোগ দ্বীপদেশটিতে অন্তত ৬৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম ডেইলি মিরর। এর বাইরে ৩৪ জনকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়েছে।

হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর নৌকা অসংখ্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে; গাছের মগডাল, বাড়ির ছাদ ও বন্যায় বিচ্ছিন্ন গ্রাম থেকে অনেককে তুলে আনা হয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) বলেছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যাঞ্চল থেকে আরও মৃতদেহ পাওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। মধ্যাঞ্চলে নিহতদের বেশিরভাগই মারা গেছে কয়েকদিনের ভূমিধসে জীবন্ত মাটিচাপা পড়ে।

ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কাজুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত আছে, কোনো কোনো এলাকা ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিও রেকর্ড করেছে বলে জানিয়েছে ডিএমসি।

রাজধানী কলম্বোর কাছে ভারত মহাসাগরে মিশে যাওয়া কেলানি নদীর তীর উপচে অনেক এলাকায় পানি ভেতরে ঢুকে পড়েছে।

৫৬ বছর বয়সী ভিএসএ রত্নায়েকে প্যারিসভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বন্যার পানি ঘরের ভেতর ঢুকে যাওয়ায় তিনি কাদুওয়েলায় নিজের বাড়ি থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কাদুওয়েলা কলম্বোর পাশেই অবস্থিত।

“আমার মনে হয় এটা গত তিন দশকের মধ্যে আমাদের এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা। ১৯৯০ এর দশকে একটা বন্যার কথা মনে পড়ছে, যখন আমার ঘর ৭ ফুট পানির নিচে ছিল,” বলেছেন তিনি।

কাদুওয়েলার আরেক বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী কল্যাণী জানিয়েছেন, তিনি বন্যার পানি ঘরে ঢুকে যাওয়া দুটি পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছেন।

কাদার ধস ও বন্যায় অন্তত ৩ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হয়েছে ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে।

শুক্রবার কলম্বোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, রেল লাইনের পাশে কিছু এলাকায় বন্যা দেখে শনিবার সকাল থেকে মেইন লাইনে চলাচল করা একাধিক ট্রেনের যাত্রা স্থগিত রাখা হয়েছে।

উত্তরের অনুরাধাপুরা জেলায় বিমান বাহিনীর একটি বেল ২১২ হেলিকপ্টার একটি নারিকেল গাছে চড়ে বসা এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়েছে। বাড়তে থাকা বন্যার পানি থেকে বাঁচতে তিনি গাছটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া উত্তর দিক থেকে সরে রোববারের মধ্যে ভারতের দক্ষিণের রাজ্য তামিল নাড়ুর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় শ্রীলঙ্কাজুড়ে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে ডিএমসি।

তাদের আশঙ্কা, এবারের বন্যা ২০১৬ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে। সেবারের ওই দুর্যোগ দেশটির ৭১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

বন্যায় আটকে পড়া কয়েক ডজন পর্যটককে চা চাষের জন্য খ্যাত মধ্যাঞ্চল থেকে শুক্রবার কলম্বোতে সরিয়ে আনা হয়েছে।

সেচ ও জলবিদ্যুতের জন্য শ্রীলঙ্কা বর্ষাকালের বৃষ্টির জন্য মুখিয়ে থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দেশটিতে বন্যার তীব্রতা ও সংখ্যা আরও বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

গত বছরের জুনেও তুমুল বৃষ্টির কারণে দেশটিতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ডিসেম্বরে বন্যা, ভূমিধসে প্রাণ গেছিল ১৭ জনের।

এ শতাব্দীতে শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্যা দেখেছে ২০০৩ সালের জুনে, সেবার ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।