তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের ‘কোনো বাধা নেই’: প্রেস সচিব
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরায় ‘কোনো বিধি নিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি না থাকার’ কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘সংকটময় পরিস্থিতিতে’ ছেলে তারেক রহমান তার দেশে ফেরার ‘জটিলতা’ নিয়ে কথা বলেছেন।
ফেইসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তার ‘একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়’।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিকালে প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, “এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোনো বিধি নিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নাই।”
তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।”
একই কথা প্রেস সচিব তার ফেইসবুক পোস্টেও লিখেছেন।
এদিন সকাল পৌনে ৯টায় ফেইসবুক পেইজে দেওয়া সেই পোস্টে মায়ের সংকটাপন্ন সময়ে তার পাশে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।”
এছাড়া মায়ের রোগমুক্তির জন্য দেশের সব স্তরের নাগরিকের আন্তরিক প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার পর সেখানেই রয়েছেন।
গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়া লন্ডনে চিকিৎসা নিতে গেলে দীর্ঘদিন পর মা ও ছেলের সঙ্গে দেখা হয়। তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, জনপরিসরে সে আলোচনা রয়েছে। বিএনপির তরফেও বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, তিনি দেশের ফিরবেন।
৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন থেকে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর মধ্যে বলেন, “গত বৃহস্পতিবার আমি রাত ২টা পরযন্ত এভারকেয়ার হাসপাতালে ছিলাম। ডাক্তাররা ম্যাডামকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
শুক্রবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটময়’ বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল।