শনিবার ২৯ নভেম্বর ২০২৫, অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪৩২, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

জাতীয়

ভোটের মহড়াতেই অব্যবস্থাপনা, নতুন করে ভোটগ্রহণ শুরু

 প্রকাশিত: ১২:০১, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

ভোটের মহড়াতেই অব্যবস্থাপনা, নতুন করে ভোটগ্রহণ শুরু

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে শনিবার ঢাকায় যে মহড়া চলছে, তাতে অব্যবস্থাপনা দেখে ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ নতুন করে ভোটগ্রহণ শুরু করেছেন।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে ঢাকার শেরে বাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি বুথে শুরু হওয়া ভোট চলবে বেলা ১২টা পর্যন্ত।

ভোটের মহড়া দেখতে কেন্দ্রে উৎসুক মানুষ ও ভোটারদের ভিড় দেখা গেছে। সাংবাদিকদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো।

এমন পরিস্থিতিতে ভোটের এক ঘণ্টা পরে আসেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি ভোটকেন্দ্রের হ-য-ব-র-ল অবস্থা দেখে কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ভোট দিতে কত সময় লাগে তা নিজেই তদারকি শুরু করেন।

পুরুষ ও নারী ভোটকেন্দ্রের জন্য ২০ জন করে ভোটার বাছাই করে নতুনভাবে ‘মক ভোটিং’ শুরু করেন।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “ভোটের লাইনে দাঁড়ানো থেকে ভোট দেওয়া পর্যন্ত কত সময় লাগে তা দেখতে হবে। কারণ এ সময়টার ওপর ভিত্তি করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে অনেক কিছু।

“ভোট কক্ষের সংখ্যা ঠিক আছে কি না, গোপন কক্ষের সংখ্যা ঠিক আছে কি না, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে কি না ইত্যাদি। শুধুমাত্র এখানে নাটক করার জন্য এ কাজটা নয়, কাজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরকম হযবরল ও অরাজকতা থাকতে এ কাজ করে লাভ নেই।”

ভোটার ছাড়া অন্যদের সরিয়ে দিয়ে ‘মক ভোটিং’ এর কাজে সহায়তা করার অনুরোধ জানান তিনি।

প্রথম ঘণ্টায় চারটি বুথে ২৩ জন, ৩৭ জন, ২৭ জন ও ২১ জন ভোট দিয়েছে বলে জানান সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার।

একাধিক ভোটার জানিয়েছেন, সংসদ ও গণভোটের ভোট দিতে লেগেছে গড়ে ১ মিনিট সময়।

 

না বুঝেই গণভোট

শফিকুল ইসলাম নামের একজন ভোটার সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে ভোট দিয়েছেন খুব সহজে। আর গণভোটের ‘হ্যাঁ/না’ ভোট দিয়েছেন না বুঝেই।

তিনি বলেন, “গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা দরকার। এখানে গোলাপি রংয়ের ব্যালটে কী লেখা আছে তা পড়ার সুযোগও হয়নি, ছোট লেখায় খেয়ালও করতে পারিনি।

“আমি এটা ভালোভাবে বুঝিনি। একটা টিক ও ক্রস চিহ্ন রয়েছে-একটাতে সিল মেরে দিলাম। এটা নিয়ে প্রচারণা দরকার।”

আবু হানিফ নামে এক ভোটার বলেন, “আজ যখন এখানে ভোট দিতে এসেছি, তখনও আমাদের জানানো হয়নি গণভোটে কী কী থাকবে।

“আগে থেকে যদি ব্রিফ করতেন, তাহলে আমরা বুঝতে পারতাম। আবার সব পড়ার সুযোগও ছিল না। তার পরও হ্যাঁ ভোট দিয়েছি।”

একই বুথে ভোট দেওয়া হাফিজুর রহমান বলেন, “গণভোট দিয়েছি কিন্তু না দেখে, না পড়ে। আগে থেকে আরও জানা থাকলে ভালো হতো।”

গণভোট নিয়ে প্রচারণার তাগিদ দিলেন ভোটার আবুল কালাম।

তিনি বলেন, “আমি না ভোট দিয়েছি। হঠাৎ করে ভোট হলো। আগে থেকে কিছু জানতে পারিনি।

“তবে, আমি না ভোট দিয়েছি। আগে থেকে জানতে পারলে ভালো হতো।”

হাজি মোহাম্মদ শফিকুল বলেন, “একই দিনে দুটি ভোট হলে একটু সমস্যা; আমি ভালোভাবে বুঝতে পারলে জেনে-বুঝে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে পারতাম।

“এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন আরও ভূমিকা রাখতে পারতো। তবে, হ্যাঁ ভোট নাকি না ভোট দিয়েছি, তা জানাতে চাচ্ছি না।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ভোটার বলেন, “ভালো পরিবেশে ভোট দিয়েছি। কিন্তু গণভোট দিয়েছি না দেখেই।

“গণভোট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানানো দরকার সবাইকে। যেমন আমি আজ গণভোটের প্রশ্নগুলো পড়তে পারিনি। মানে, সময় পাইনি।”

প্রিজাইডিং অফিসার বলছেন, ভোট ব্যবস্থাপনা ভালোভাবে করা সম্ভব হয়েছে। ভোটার সিরিয়াল জানানো থেকে ভোটকেন্দ্রের পৌঁছানো পর্যন্ত সহায়তা করা হয়েছে। গোপন কক্ষে ভোট দেওয়ার আগে ভোটার তালিকা যাচাই, ব্যালট পেপার সরবরাহ, সিল, কালি দেওয়া সব মিলিয়ে প্রতি ভোটারের এক মিনিটের মতো সময় লাগছে।

এম এম নাসির উদ্দিন কমিশন গেল বছরের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো নির্বাচন করেনি। এই মক ভোটিংয়ের মাধ্যমে সময় ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সকালে ভোটকেন্দ্রে বলেন, “আধাবেলা ভোট হলেও ভোট দিতে কত সময় লাগে এবং ব্যবস্থাপনায় কী কী ধরনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হয় তা পর্যালোচনা করা হবে।”

গণভোটের ব্যালট

জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের কাছে কেবল একটি ঘরে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট চাওয়া হয়েছে।

ব্যালট পেপারটি এমন—

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি আছে?: (হ্যাঁ/না)

(ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।

(খ) আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে।

(গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে—সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে।

(ঘ) জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।

আলাদা ব্যালট পেপারে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও প্রতীক তালিকা রয়েছে মক ভোটিংয়ের ব্যালট পেপারে।