শনিবার ০২ জুলাই ২০২২, আষাঢ় ১৭ ১৪২৯, ০২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৩

জাতীয়

দিনাজপুরে খুনের দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

 প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ২৩ মে ২০২২

দিনাজপুরে খুনের দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় হুমায়ুন কবীর হত্যা মামলায় আদালত ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ৪ আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
 
মামলার আলামত গোপন করার অপরাধে রায়ে প্রত্যেককে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেল ৪টায় দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মো: মেহেদী হাসান মন্ডল ৭ আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। 

দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শাহ মো: মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল জানান, ২০০৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার গরপিকলাই গ্রামের শহিদুল ইসলামের পুত্র হুমায়ুন কবীর (২০) বাড়ি থেকে বিকেলে জয়নগর বাজারে যায়। 

 ওই বাজারে পূর্ব শত্রুতার সূত্র ধরে আসামীরা হুমায়ুন কবীরকে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী এমআইবি ইট ভাটায় নিয়ে ছরিকাঘাতে হত্যা করে। পরে লাশ ইট ভাটার ইটের স্তুপের নিচে মাটি চাপা দিয়ে পুতে রাখে। হুমায়ুন কবীর বাড়ি না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন পরের দিন ২১ সেপ্টেম্বর ফুলবাড়ী থানায় অভিযোগ করেন।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় ফুলবাড়ী উপজেলার গরপিকলাই গ্রামের ইদ্রিস আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর আলমকে (৩০)গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলমের স্বীকারোক্তি ও তার দেখানো মতে জয়নগর বাজারের পূর্ব পার্শ্বে এমআইবি ইট ভাটার ইটের স্তুপের নিচ থেকে পুতে রাখা অবস্থায় হুমায়ুন কবীরের লাশ উদ্ধার করা হয়।
 
জবানবন্দীতে জাহাঙ্গীর আলমসহ তার সহযোগি একই গ্রামের আজাহার আলীর ৩ পুত্র রব্বানী (৪০), একরামুল (৪৫), রেজাউল (৪২), একই গ্রামের আব্দুল আজিজের পুত্র আতর আলী (৫০), সিরাজুউদ্দীনের পুত্র শাহেদ আলী (৬০) ও   নাসির উদ্দীনের পুত্র শরিফুল ইসলাম (৩৫) এই হত্যার সাথে জড়িত বলে বর্ণনা দেয়। 

মামলাটি ফুলবাড়ী থানার পুলিশ তদন্ত করে ৭ আসামীকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে আদালতে বিচারের জন্য অভিযোগপত্র পেশ করে। 

মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামী রেজাউল ইসলাম, আতর আলী ও শরিফুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডে রায় কার্যকর করার আদেশ প্রদান করেন। অপর আসামী জাহাঙ্গীর আলম, একরামুল, রব্বানী ও শাহেদ আলীকে যাবজ্জীন সশ্রম কারাদন্ড এবং হত্যার পর লাশ  গুম করার অপরাধে প্রত্যেকে ১ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। 

মন্তব্য করুন: