শনিবার ২৯ নভেম্বর ২০২৫, অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪৩২, ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

ব্রেকিং

খালেদা জিয়া বিদেশে নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই: মির্জা ফখরুল তারেক রহমানের দেশে ফেরায় সরকারের ‘কোনো বাধা নেই’: প্রেস সচিব “ঢাকায় উবারের ভাড়া জালিয়াতি অভিযোগে ভোক্তা অধিদপ্তরের তদন্ত, গ্রাহক ক্ষোভ চরমে” ‘খালেদা জিয়ার জন্য প্রস্তুত এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, অবস্থা বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত’ সারাদেশে ‘রোড শো’র পর বিজয় দিবসে ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি ভূমিকম্প: বন্ধের ৮ দিনের মাথায় ঢাবিতে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ায় বিপর্যয়, শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারি কক্সবাজারে র‍্যাব-১৫ এর সব কর্মকর্তা-কর্মচারী একযোগে প্রত্যাহার ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল: সিইসি দেশে ফেরার ‘একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের’ সুযোগ দেখছেন না তারেক সালথায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০০ বই-ব্যাগ ছাড়াই স্কুলে ফিরছে গাজার শিশুরা ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ মামলায় তুরস্কে ৮৭ জনকে খালাস

রাজনীতি

মনোনয়ন: মেহেরপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের ‘বিদ্রোহ’

 প্রকাশিত: ১৬:৩৮, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

মনোনয়ন: মেহেরপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকের ‘বিদ্রোহ’

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন এবং সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান দুজনেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন দল তাদেরকেই মনোনয়ন দেবে। মেহেরপুরে দুটি সংসদীয় আসন; মিল্টন-কামরুল সেই দুটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

দুই নেতাই সমাবেশ, গণসংযোগে ভোটারদের উদ্দেশে বলতেন- দল যাকে মনোনয়ন দেবে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তাকেই মেনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কেউ যদি দলীয় মনোনয়নের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে ভোট চাইতে আসে তাহলে ‘ঝাঁটা’ দিয়ে পিটিয়ে গ্রামছাড়া করবেন।

দল এই দুই নেতার কাউকেই মনোনয়ন দেয়নি। এখন তারা মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন, মারামারি করছেন- যা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল বাশার।

চলতি মাসে বিএনপি ২৩৮ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে মেহেরপুর-১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাসুদ অরুণকে এবং মেহেরপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনের নাম ঘোষণা করেছে।

এরপর থেকেই মিল্টন ও কামরুলের সমর্থকরা তিন উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, প্রচারপত্র বিতরণ, অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি, সাইকেল শোভাযাত্রা, নারী সমাবেশ ইত্যাদি চালিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের দুই প্রার্থী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে রাতদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনি গণসংযোগ করছেন।

এই অবস্থায় কেউ কেউ মনে করছেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে জেলা বিএনপিতে মিল্টন-কামরুল পক্ষের বিপরীতে অরুণ-আমজাদ পক্ষের আপাতত জয় হয়েছে। তবে, যদি দলের সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে ভোটের প্রচার ও নির্বাচন করা না যায় তাহলে জয় হাতছাড়া হতে পারে।

জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে জেলায় বিএনপির রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। পুরনো জেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে জাভেদ মাসুদ মিল্টনকে আহ্বায়ক এবং কামরুল হাসানকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। এই দুজনই রাজনীতিতে নতুন মুখ।

অভিযোগ আছে, এই কমিটির সময়ে পুরনোরা কোণঠাসা হতে শুরু করেন। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব নিজেদের পছন্দের নেতাদের দিয়ে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর, উপজেলা ও জেলা কমিটি গঠন করেন।

জেলা কমিটিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি মাসুদ অরুণ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেনকে রাখা না হলে বিভেদের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মিল্টন-কামরুল এবং অরুণ-আমজাদ এই দুইভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা।

মেহেরপুর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস বলেন, “নির্বাচনি গণসংযোগে মিল্টন-কামরুল পক্ষের চেয়ে অরুণ-আমজাদ পক্ষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তবু মিল্টন-কামরুল পক্ষ নিশ্চিত ছিল যে, তাদের মতামত ছাড়া এখানকার দুটি আসনে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

“কিন্তু দল মাঠ পর্যায়ের অবস্থা জানতে একাধিক তদন্ত করে জেলা কমিটির নেতাদের মনোনয়ন না দিয়ে সাবেক দুই সংসদকে মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা কমিটির মাথায় বজ্রাঘাতের মতো অবস্থা হয়েছে। এখন অরুণ-আমজাদ পক্ষ আরও শক্তি নিয়ে কমিটির কিছু নেতাদের বাদ দিয়ে দলের ঐক্য গড়তে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। ১৬ বছর দলকে সংগঠিত করা এবং ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে মাসুদ অরুণের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বিএনপিকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।”

অন্যদিকে মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, “মাসুদ অরুণ ৫ অগাস্ট পরবর্তী অনেক বিতর্কিত কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকায় স্থানীয় বিএনপি থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। এমন নেতাকে কেন্দ্র মনোনয়ন দিয়ে মেহেরপুর বিএনপির ভাবমূর্তিকে ভোটারদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করল। তাই মনোনয়ন পরিবর্তন করা না হলে এই আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হবে।”

গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, “মেহেরপুর-২ আসনে দলের জেলা সভাপতি মিল্টন দলে পরিবারতন্ত্র এনে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাদ দিয়ে মনোনয়নকেন্দ্রিক কাজ করতেন। ১৬ বছর দলের কোনো কার্যক্রমে ছিলেন না। ফলে তৃণমূলের সমর্থন হারিয়েছেন তিনি। বিএনপি এই মনোনয়ন দিয়ে ১৭ বছরের কাজের মূল্যায়ন করেছে।”

অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল বলেন, “দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা তাকে সমর্থন না দিলে তার পরাজয় অনিবার্য। তাই এই মনোনয়ন অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।”

জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, অবৈধ মনোনয়ন বাতিল করে প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে তারা আন্দোলন সংগ্রাম করছেন। প্রার্থী ঘোষণায় দলীয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে বলে তারা আশাবাদী।

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বলেন, “বিএনপি বড় দল। প্রার্থী ঘোষণার পর ভাইয়ে-ভাইয়ে একটু দ্বন্দ্ব-অমিল দেখা দিতেই পারে। আমি চেষ্টা করছি, আমার বিরুদ্ধজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ করতে।”

তিনি বলেন, বর্তমানে এখানে কর্মীদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। পকেট কমিটির কিছু নেতা এখনও বিরুদ্ধে আছে। তবে তফসিল ঘোষণা হলে সবাই একমঞ্চে এসে দাঁড়াবে এমন বিশ্বাস তার।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, “জেলা কমিটির মতামত না নিয়ে অবৈধভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত প্রার্থীকে বাতিল করে কমিটির যাকে খুশি তাকে প্রার্থী করুক আমরা তার পক্ষে কাজ করবো। আমরা প্রার্থী বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে যাব।”

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাসুদ অরুণ বলেন, “১৭ বছর দলকে যারা আগলে রেখেছে প্রার্থী বাছাইয়ে মূলত দল তাদেরই মূল্যায়ন করেছে। আমাকে প্রার্থী ঘোষণার পর আমি দলের সাধারণ সম্পাদকসহ প্রতিটি জ্যেষ্ঠ নেতার বাড়ি গিয়ে তাদের সমর্থন আদায় করেছি।

“প্রার্থিতা নিয়ে বড় দল হিসেবে কিছু দ্বন্দ্ব থাকলেও সেটা নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর শেষ হয়ে যাবে। তখন সবাই ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবে।”

তিনি বলেন, “দলের কমিটির মধ্যে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ঢুকে পড়েছে। মূলত তারাই চেষ্টা করছে এই দ্বন্দ্বকে জিইয়ে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে।”